Tuesday, January 7, 2020


ডেঙ্গু  সংক্রামক ব্যাধি  স্বাস্থ্য

সচেতন থাকুন ডেঙ্গু সম্পর্কে

Written by Maya Expert Team
ডেঙ্গু একটি ভাইরাল ইনফেকশন। এটা একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত মানুষ থেকে আরেকজনে ছড়ায় না কিন্তু এডিস মশা থেকে ছড়ায়। এডিস মশা সাধারণত দিনে কামড়ায় বিশেষ করে ভোর বেলা এবং বিকেলবেলায়।এখনো পর্যন্ত এই অসুখের কোনো টিকা আবিষ্কৃত হয়নি এবং এর নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নাই।তাই ডেঙ্গু জ্বর সম্পর্কে সম্যক ধারণাই কেবল এর থেকে মুক্তি দিতে পারে।
বাংলাদেশে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। ২০০০ সালের শুরুর দিকে আমাদের দেশে প্রথম এই ইনফেকশন ধরা পড়ে। তবে এই বছর এখন পর্যন্ত তেমন বৃষ্টি না হলেও, বেশ কয়েকবার পশলা বৃষ্টি হয়েছে।  যার ফলে অনেক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়াতে মশার বংশ বৃদ্ধি বেড়ে যায়।তাই এই বছর ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ অনেক বেশি দেখা যায়।

ডেঙ্গু রোগের কারণ

বর্তমানে চার প্রজাতির ডেঙ্গু ভাইরাস আছে ,যখন একটি এডিস মশা কোনো ডেঙ্গু ভাইরাস আক্রান্ত মানুষ কে কামড়ায় তখন সেই জীবাণু মশার মধ্যে প্রবেশ করে। এই মশাটি যখন অন্য মানুষ কে কামড়ায়, তখন ভাইরাস সেইমানুষের রক্ত প্রবাহে মিশে যায়।
একবার ডেঙ্গু হলে আর হবে না এই রকম কোনো কথা নাই। কারণ চার ধরণের ডেঙ্গু ভাইরাসের মধ্যে আপনি হয়তো একটি দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন ,তাই বাকি তিন ধরণের ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।
এডিস মশা সাধারণত আমাদের ঘর এবং ঘরের আশে পাশে বিভিন্ন স্থানে যেখানে পানি জমতে পারে সেইখানেই বংশ বিস্তার ঘটায়, যেমন ফুলের টব, ভাঙা পানির বোতল,পুরানো টায়ার,ড্রেইনে জমে থাকা পানিতে।

ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ

সাধারণভাবে, ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্তরা হয় উপসর্গবিহীন (৮0%) অথবা সাধারণ জ্বরের মত সামান্য উপসর্গ। ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হলে চার থেকে দশ দিনের মধ্যে সাধারণত উপসর্গ দেখা যায়, যেমন-
  • জ্বর, তাপমাত্রা 105 /106 সেলসিয়াস হতে পারে
  • মাথা ব্যথা
  • চোখের পিছনে ব্যথা
  • মাংস পেশী এবং জয়েন্টে ব্যথা
  • বমিভাব এবং বমিএই পর্যায়ে ৫০-৮০% উপসর্গে র‍্যাশ বেরোয়। এটা উপসর্গের প্রথম বা দ্বিতীয় দিনে লাল ফুস্কুড়ি হিসাবে দেখা দেয়, অথবা পরে অসুখের মধ্যে(দিন ৪-৭) হামের মত র‍্যাশ দেখা দেয়। কিছু ছোট লাল বিন্দু এই জায়গায় আবির্ভূত হতে পারে যেগুলি ত্বকে চাপ দিলে অদৃশ্য হয় না, যেগুলি দেখা যায় ত্বকে চাপ দিলে এবং এর কারণ হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্থ রক্তবাহী নালী।বেশির ভাগ ক্ষেত্রে  থেকে ১০ দিনের মধ্যে সকল উপসর্গ কমে যায়।কিন্তু হেমোরেজিক ডেঙ্গু সাধারণ ডেঙ্গুর তুলনায় বেশি মারাত্মক এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসার অভাবে তা রোগীর মৃত্যুর কারণ হতে পারে।এ ক্ষেত্রে জ্বরের সাথে সাথে রোগীর শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ষক্ষরণ হয়।রোগীর জ্বরের সাথে দাঁত ও মাড়ির গোড়া থেকে রক্ত পড়া,নাক দিয়ে বমির সাথে রক্ত পড়া,গায়ে রক্ত জমে ছিটা ছিটা দাগ, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়।এছাড়া পায়ুপথ দিয়ে রক্তপাত শুরু হতে পারে।আরো মারাত্মক আকার ধারণ করলে এ রোগ থেকে সার্কুলেটরি ফেইলিওর হয়ে আরো নানা জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে।

চিকিৎসা

ডেঙ্গু রোগের কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নাই।বেশির ভাগ ডেঙ্গু জ্বরই সাত দিনের মধ্যে সেরে যায় এবং অধিকাংশই ভয়াবহ নয়। এর জন্য প্রয়োজন –
  • যথেষ্ট পরিমাণে পানি পান,বিশ্রাম ও যথেষ্ট পরিমাণ তরল খাবার।
  • জ্বর কমানোর জন্য এসিটামিনোফেন (প্যারাসিটামল) গ্রুপের ওষুধ সেবন করতে হবে ।
  • তবে ব্যথানাশক ওষুধ হিসেবে অ্যাসপিরিন বা ক্লোফেনাক-জাতীয় ওষুধ দেওয়া যাবে না।এতে রক্তক্ষরণ বেড়ে যেতে পারে।হেমোরেজিক বা রক্তক্ষয়ী ডেঙ্গু,যা খুবই কম হয়ে থাকে এবং এটা বেশি ভয়াবহ। এতে মৃত্যুও হতে পারে।জ্বরের সঙ্গে রক্তক্ষরণের লক্ষণ দেখামাত্র হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে বিশেষ চিকিৎসার জন্য।।জ্বর কমানোর জন্য বারবার গা মোছাতে হবে ভেজা কাপড় দিয়ে। আইভি ফ্লুইড দিতে হবে এবং ব্লাড প্রেসার মনিটর করতে হবে।প্রয়োজনে বেশি রক্তপাত হলে প্লেটলেট বা ফ্রেশ ফ্রোজেন প্লাজমা দিতে হবে।

প্রতিরোধ

যেহেতু ডেঙ্গু রোগের কোনো নির্দিষ্ট টিকা বা ওষুধ নাই , সেক্ষেত্রে প্রতিরোধের মাধ্যমেই ডেঙ্গু রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।এর জন্য-
  • যেসব স্থানে এডিস মশা বাস করে সেই সব স্থানের এডিস মশার আবাস ধ্বংস করে দিতে হবে। তাই দিনের বেলা ঘরে যাতে মশা ঢুকতে না পারে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। জমে থাকা পানিতে এরা বংশ বিস্তার করে। ফুলের টব, কৃত্রিম পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, গাছের কোঠর, বাঁশের গোড়ার কোঠর, ডাবের খোসা, বাসার ছাদ প্রভৃতি স্থানে জমে থাকা পানিতে এদের বংশ বিস্তার ঘটে বলে সেখানটায় মশা নিধক ওষুধ ছিটিয়ে দিতে হবে। আর এভাবেই সম্ভব ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা। বাড়ির আশপাশের নদর্মা ও আবদ্ধ জলাশয়ে ওষুধ ছিটিয়ে মশা মারতে হবে। ঝোপঝাড় পরিষ্কার করতে হবে।
  • ডেঙ্গু মশা, মানে এডিস মশা সকাল-সন্ধ্যা কামড়ায়। অর্থাৎ ভোরে সূর্যোদয়ের আধাঘণ্টার মধ্যে এবং সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের আধাঘণ্টা আগে এডিস মশা কামড়াতে পছন্দ করে। সুতরাং এই দুই সময়ে মশার কামড় থেকে সাবধান থাকতে হবে।
  • বাসার কারো ডেঙ্গু জ্বর হলে তাকে অবশ্যই মশারির মধ্যে রাখতে হবে যাতে অন্য কোনো সদস্য আক্রান্ত না হয়।
  • এই মৌসুমে যথা সম্ভব ফুল স্লিভ কাপড় , ট্রাউজার এবং mosquito repellent ব্যবহার করতে হবে।


Monday, January 6, 2020

ওজন বাড়ানো কমানো  ডায়েট  ফিটনেস  ফিটনেস  ব্যায়াম এবং ফিটনেস  স্বাস্থ্য

সকালে হাঁটার উপকারিতা!




সকালে হাটতে বের হওয়ার অনুভূতি এক এক জনের জন্য এক এক রকম।  কারো জন্য এই সময়টুকু খুব সতেজ অনুভূতি সম্পন্ন , আবার কারো জন্য এটা ঘুম নষ্ট করা। অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠতে চায় না। কিন্তু যখন প্রশ্ন যখন  আপনার স্বাস্থ্য নিয়ে তখন আর আপস করা সম্ভব হয় না। 

যদি আমরা একটা স্বাস্থ্যকর জীবন আর ঘুমের মাঝে তুলনা করি, তাহলে আমরা সব সময় ঘুমকে সব কিছুর উপরে অগ্রাধিকার দেই।  কিন্তু ঘুমই সমবসময় প্রাধান্য পাবে- এমনটা হয় উচিত নয়। আপনি জানেন কি? আপনি যদি দিনে ৮ ঘন্টা ঘুমান তাহলে এক সপ্তাহে আপনি ঘুমোন ৫৬ ঘন্টা, মাসে ২২৪ ঘন্টা এবং সর্বশেষে আপনি বছরে ২৬৮৮ ঘন্টা ঘুমান। যেটা এক বছরে আপনার জীবনের এক তৃতীয়াংশ সময় শেষ করে ফেলে। এটা অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। এটি বলে কিন্তু  আমি কারো ঘুমের ওপর উৎসাহ কমাতে চাচ্ছি না। তবে আমি একটা স্বাস্থ্যকর জীবন পেতে কি কি বিষয় চর্চা করা দরকার সেবিষয়ে সবাইকে সচেতন করার চেষ্টা করছি।  
সুস্থ  থাকতে খাওয়া, ঘুম, ব্যায়াম, বিশ্রাম সবকিছুরই  একটা ব্যালেন্স থাকা দরকার। এর চর্চার জন্যে আসলে  আমাদেরকে কিছু মূল্য দিতে হয়। এক্ষেত্রে এই মূল্য আপনাকে দিতে হবে সকালে ঘুম থেকে উঠেই একটা নাইকির জুতা পরে নিজেকে বলা, “জাস্ট ডু ইট!” 


এসটিডিএস/এসটিআইএস

যৌন রোগ থেকে বাঁচার উপায়

যৌন রোগ কি? 
যৌনরোগ (এসটিডি) এমন একটি রোগ যা সাধারণত যৌন মিলনের মাধ্যমে এক ব্যাক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়িয়ে যায়।অনেক সময় আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত নিলে, এরকম কারো ব্যবহৃত একই সিরিঞ্জ শরীরে প্রবেশ করলেও আপনি এই রোগ দ্বারা আক্রান্ত হবেন। 
যৌন রোগ থেকে কি হতে পারে? 
যৌনরোগ অনেক সময়  ব্যথার কারণ হতে পারে এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা করা না হলে বন্ধ্যাত্ব এবং এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।পুন: পুন: গর্ভ নষ্ট হতে পারে অথবা মৃত বাচ্চা প্রসব করতে পারে। পুরুষেরা সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে। কিছু প্রতিরোধ যোগ্য যৌনরোগ  হ’ল গনোরিয়া, ট্রাইকোমোনিয়াসিস, ক্ল্যামিডিয়াল ইনফেকশন, সিফিলিস এবং এইচআইভি / এইডস।
বর্তমান অবস্থাঃ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর মতে প্রতিদিন প্রায় ১ মিলিয়নেরও অধিক মানুষ এই চারটি রোগের একটি দ্বারা সংক্রমিত হচ্ছে। সংবাদ সংস্থা সি এন এনের প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী  প্রতি ২৫ জনে ১ জন এই ধরণের যৌনবাহিত রোগ দ্বারা আক্রান্ত। 
অবস্থার ভয়াবহতা পরিদর্শনে আমাদের সকলেরই এই বিষয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
 প্রতিরোধের উপায়ঃ যৌন রোগ থেকে বাঁচতে হলে নিচের যেকোন একটি উপায় অবলম্বন করুন।  
ক) আপনার পার্টনারের সাথে বিশ্বস্ত থাকুনঃ সর্বদা একজন ব্যক্তির সাথেই যৌনমিলন করুন এবং নিশ্চিত হন যে ওই ব্যাক্তি অন্য কারও সাথে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত নয় এবং তার ও যৌনবাহিত কোন রোগ নেই।
এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, যৌনরোগে আক্রান্ত ব্যাক্তি দেখতে অসুস্থ মনে নাও হতে পারে। তাই, পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন। 
এন্টি ক্যান্সার লাইফস্টাইল  স্বাস্থ্য

ক্যান্সার প্রতিরোধ এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার ৭ টি উপায়

ক্যান্সার প্রতিরোধ এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার ৭ টি উপায়মাত্র ৭ টি ভাল অভ্যাস আপনার ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাসের পাশাপাশি হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস এবং অস্টিওপোরোসিসের সম্ভাবনা কমিয়ে দিতে পারে জানেন কি?
সুস্বাস্থ্য রক্ষায় শুরুতে নীচের এক বা দুটি অভ্যাস গড়ে তুলুন। এগুলি আয়ত্তে আসলে পরবর্তী গুলো চেষ্টা করুন ধীরে ধীরে। 
১। ওজন নিয়ন্ত্রনঃ
আপনার ওজন যদি বেশী হয়ে থাকে প্রথমেই চেষ্টা করুন এটি স্থির রাখার। এটি করতে সক্ষম হবার পর আপনি নিজের ওজন কমানোর চেষ্টা শুরু করুন। আপনার ওজন কতটা বেশী বা কম  তা পরীক্ষা করুন মায়া অ্যাপ থেকে। 
টিপসঃ 
  • স্বাভাবিক হাঁটাচলা এবং শারীরিক কার্যকলাপ বাড়িয়ে তুলুন।
  • খাবার অল্প পরিমাণে এবং বেশী সময় চিবিয়ে খান।   
  • শিশুদের টিভি এবং কম্পিউটার দেখার সময় সীমাবদ্ধ করুন।
  • খাওয়ার পরপর ই শুয়ে না পড়ে একটু স্বাভাবিক হাঁটাচলা করুন।  
২। শরীরচর্চাঃ   
প্রতিদিন নুন্যতম ৩০ মিনিট শরীর চর্চার অভ্যাস গড়ে তুলুন। আরও বেশী সময় করতে পারলে ভাল।
টিপসঃ 
  • আপনার উপভোগ্য কোন কাজকে কিছুকে ব্যায়াম হিসেবে অনুশীলন করতে পারেন। যেমন- হাটা, নাচ করা , বাগান করা।
  • শিশুদের নিয়মিত বাইরে নিয়ে খেলাধুলা করানো, সাইকেল চড়া ইত্যাদি খেলাধুলায় অভ্যস্থ করে তুলুন।
৩। ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করুনঃ  
ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কথাটি অনেকবার শুনলেও ধূমপায়ীদের জন্য ধূমপান ত্যাগ আসলেও কষ্টকর তবে অসম্ভব কিছু নয়। একই ভাবে মদ্যপান ও ত্যাগ করা জরুরী।   
টিপসঃ 
  • কঠিন মনে হলেও হাল না ছেড়ে চেষ্টা চালিয়ে যান।
  • শিশুদের সামনে, ঘরে ও গাড়িতে ধুমপান হতে বিরত থাকুন।
  • শিশুদের সাথে বন্ধুর মত ধূমপানের ক্ষতিকর দিকগুলো আলোচনা করুন।  
৪। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস গড়ে তুলুনঃ
সুস্থ্য থাকতে হলে খাদ্যাভাস ঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরী।স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস গড়ে তোলার জন্য প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল ,এবং আঁশযুক্ত খাবার রাখুন। 
টিপসঃ       
  • খাদ্যতালিকায় লাল আটার রুটি, লাল চালের ভাত রাখুন।
  • মাছ, মুরগী, শস্য রাখুন বেশী বেশী এবং গরু ও খাসির মাংস কম রাখুন সম্ভব হলে বাদ দিন।
  • ফাস্ট ফুড, চিনি, বেকারী আইটেম যেগুলোতে ক্ষতিকর চর্বির পরিমাণ বেশী তা পরিহার করুন। 
  • খাবারে পরিমিত তেল ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে অলিভ অয়েল বা ক্যানলা তেল ব্যবহার করুন।  
৫।    রোদ থেকে দূরে থাকুনঃ 
সূর্যের প্রখর রোদ স্কিন ক্যান্সারের কারণ হতে পারে তাই দিনেরবেলা সাধারণত সকাল ১০ঃ৩০ – বিকাল ৪ঃ০০ টার মধ্যে বাইরে বের হওয়া কমাতে হবে। বের হলেও যথাযথ রোদ প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিতে হবে। 
টিপসঃ    
  • রোদে বের হলে টুপি, বড় হাতার জামা, রোদ চশমা, ছাতা ব্যবহার করুন।
  • ভাল মানের সানস্ক্রিন ( এস পি এফ সমৃদ্ধ ) ব্যবহার করুন।
৬। যৌনরোগ মুক্ত থাকুনঃ হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ক্যান্সার সৃষ্টিকারী আরও অনেক রোগের সাথে সম্পর্কিত। তাই যৌনরোগ থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকলে আপনার ক্যান্সার রোগের ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়। 
   টিপসঃ  
  • সর্বদা আপনার পার্টনারের বিশ্বস্ত থাকুন। একাধিক শারীরিক সম্পর্ক থেকে বিরত থাকুন । 
  • যৌনমিলনে সর্বদা কনডম ব্যবহার করুন। 
  • পার্টনারের আশায় না থেকে নিজের সাথে কনডম রাখুন। 
  • নিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক  সম্বন্ধে প্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানদেরকে সচেতন করুন। 
৭।  নিয়মিত স্ক্রিনিং টেস্ট করুনঃ 
নিয়মিত কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়া সম্ভব। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার ধরা পড়লে এর চিকিৎসা করা সম্ভব। স্বাস্থ্য পরীক্ষা গুলো হলঃ
  • কোলন এবং রেক্টাল ক্যান্সার।
  • স্তন ক্যান্সার
  • সার্ভিক্যাল ক্যান্সার
  • ফুসফুস ক্যান্সার 
হাল্কা জ্বর, ওজন হ্রাস, শরীরে অস্বাভাবিক গোটা বা ফুসকুড়ি ইত্যাদি দেখা দিলে অবহেলা না করে স্ক্রিন টেস্ট করানো উত্তম। 
সুতরাং আপনার স্বাস্থ্যের নিয়ন্ত্রণ আপনি নিজে নিন এবং আপনার পরিবারের সদস্যদেরকেও  এ অভ্যাস গুলো গড়ে তুলতে উৎসাহিত করুন।      

BANGLA MADICALTIPS: চোখ সংক্রান্ত সমস্যা • চোখের প্রদাহচোখ ওঠা/কঞ্জাঙ...

BANGLA MADICALTIPS: চোখ সংক্রান্ত সমস্যা • চোখের প্রদাহ
চোখ ওঠা/কঞ্জাঙ...
: চোখ সংক্রান্ত সমস্যা   •   চোখের প্রদাহ চোখ ওঠা/কঞ্জাঙ্কটিভাইটিস- চিকিৎসা সাধারণত অ্যালার্জির কারনে বা চোখের ভেতর পাপড়ি বা এরকম কিছু ঢু...
চোখ সংক্রান্ত সমস্যা  চোখের প্রদাহ

চোখ ওঠা/কঞ্জাঙ্কটিভাইটিস- চিকিৎসা

সাধারণত অ্যালার্জির কারনে বা চোখের ভেতর পাপড়ি বা এরকম কিছু ঢুকে গেলে অথবা সংক্রমণের কারণে চোখ ওঠে। চোখ ওঠার চিকিৎসা কেমন হবে তা নির্ভর করে কি কারনে চোখ উঠেছে তার উপর।
সংক্রমণের কারনে চোখ উঠলে:এ ধরণের চোখ ওঠার আলাদা কোন চিকিৎসা নেই; সাধারণত এটি ২/১ সপ্তাহের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়।
নিজের যত্ন
আপনি নিজে থেকেই নানা ভাবে সংক্রামনের কারনে চোখ ওঠার চিকিৎসা করতে পারেন।যেমনঃ
  • আপনার কনট্যাক্ট লেন্স খুলে ফেলুন এবং পুরোপুরি সুস্থ হবার আগ পর্যন্ত লেন্স ব্যাবহার করা থেকে বিরত থাকুন। সুস্থ হবার পর পুরনো লেন্স ব্যাবহার না করাই ভাল কারন এর থেকে আবার সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে। এক দফা ট্রিটমেন্ট শেষ করার পরবর্তি ২৪ ঘণ্টা লেন্স ব্যাবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
  • লুব্রিকেন্ট চোখের ড্রপ ব্যাবহার করুন। এগুলো আপনি যেকোনো ফার্মেসিতে পাবেন। এ ধরণের ড্রপ আপনার চোখের চটচটে ভাব এবং অস্বস্তি প্রশমিত করে। সবসময় প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাবহার করুন। আপনি প্রেস্কিপশন ছাড়াও এই ড্রপ কিনতে পারবেন।
  • যত্ন সহকারে সুতি কাপড় বা তুলা পানিতে ভিজিয়ে চোখের পাতা এবং পাপড়ি থেকে পিঁচুটির মত চটচটে পদার্থ পরিষ্কার করুন।
  • সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য নিয়মিত হাত ধোয়া উচিত; বিশেষ করে আক্রান্ত চোখে হাত দেয়ার পর। এতে করে অন্যদের আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা কমে যায়।

অ্যান্টিবায়োটিক
সংক্রমণের কারনে চোখ উঠলে সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। কারন এটি অধিকাংশ সময় নিজে থেকেই সেরে যায় এবং চিকিৎসা না করালেও তেমন কোন ঝুঁকি থাকে না। তবে সংক্রমণের মাত্রা যদি অনেক বেশি হয় বা ২ সপ্তাহের বেশি সময় আক্রান্ত থাকেন তাহলে আপনার ডাক্তার আপনাকে অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন। কিছু স্কুল এবং কিন্ডারগার্টেন আক্রান্ত শিশু কেবল অ্যান্টিবায়োটিক নেয়ার পরই ওকে স্কুলে আসতে দেয়, তবে এর প্রয়োজনীয়তা নেই বললেই চলে।
সাধারণত এই ২ ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়ঃ
-ক্লোরাফেনিকল(chloramphenicol)
-ফিউসিডিক অ্যাসিড(fusidic acid)
ক্লোরাফেনিকল(Chloramphenicol)অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হলে সাধারণত চোখের ড্রপের মাধ্যমে ক্লোরাফেনিকলই দেয়া হয়। তবে আপনার চোখের ড্রপ ব্যাবহার করতে সমস্যা হলে এর পরিবর্তে আপনাকে চোখের মলম দেয়া হতে পারে। চোখের ড্রপ ব্যাবহারের আগে আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিন অথবা ওষুধের সাথে দেয়া লিখিত ব্যাবহারবিধি ভালভাবে পড়ে নিন।
ফিউসিডিক অ্যাসিড(Fusidic acid)আপনার জন্য ক্লোরাফেনিকল উপযুক্ত না হলে আপনাকে ফিউসিডিক অ্যাসিড দেয়া হতে পারে। সাধারণত শিশু, গর্ভবতী নারী এবং বয়স্ক ব্যাক্তিদের ক্ষেত্রে ফিউসিডিক অ্যাসিড ব্যাবহার করা হয়। ক্লোরাফেনিকলের মত এটিও একটি চোখের ড্রপ।

পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া
চোখের ড্রপ ব্যাবহারের ফলে সাময়িকভাবে দৃষ্টি ঘোলাটে হয়ে যেতে পারে; তাই ড্রপ দেয়ার সাথে সাথে গাড়ি চালানো বা কোন প্রকার ঝুঁকিপূর্ণ যন্ত্র ব্যাবহার করা থেকে বিরত থাকুন। ক্লোরাফেনিকল এবং ফিউসিডিক অ্যাসিড ব্যাবহারের ফলে অল্প সময়ের জন্য চোখে সামান্য জ্বালাপোড়া হতে পারে।
২ সপ্তাহের বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকলে বা নিচের উপসর্গগুলোর কোনটি দেখা দিলে অনতিবিলম্বে আপনার চোখের ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন;
  • চোখে ব্যাথা
  • আলোর প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা (ফটোফোবিয়া)
  • দৃষ্টিশক্তি লোপ পাওয়া
  • এক বা দুই চোখই অতিরিক্ত লাল হয়ে গেলে
আপনার ডাক্তার আপনাকে যৌনবাহিত সংক্রমণের (STI) পরিক্ষা করাতে বলতে পারেন। ক্ল্যামিডিয়ার মত কিছু STI-এর কারনে চোখ উঠতে পারে; সেক্ষেত্রে আপনাকে বেশ কয়েক মাস ভুগতে হতে পারে।

অ্যালার্জির কারনে চোখ ওঠা
আপনার কিসের প্রতি অ্যালার্জির কারনে চোখ উঠেছে তার ওপর নির্ভর করে আপনার চিকিৎসা কেমন হবে। সাধারনত এই চার ধরনের অ্যালারজির কারনে চোখ ওঠে;
  • পরাগ রেণুতে অ্যালার্জির কারনে (সিযোনাল কঞ্জাঙ্কটিভাইটিস)
  • ধুলা বা পোষা প্রাণীর প্রতি অ্যালার্জির কারনে (পেরেনিয়াল কঞ্জাঙ্কটিভাইটিস)
  • চোখের ড্রপ বা প্রসাধনীর অ্যালার্জির কারনে (কন্ট্যাক্ট কঞ্জাঙ্কটিভাইটিস)
  • কন্ট্যাক্ট লেন্স এ অ্যালার্জির কারনে (জায়ান্ট প্যাপিলারি কঞ্জাঙ্কটিভাইটিস)
নিজের যত্নঅ্যালার্জির কারনে চোখ উঠলে আপনি ঘরে বসেই নিম্নলিখিত পরামর্শগুলো মেনে নিজের যত্ন নিতে পারবেন;
  • আপনার কনট্যাক্ট লেন্স খুলে ফেলুন এবং পুরোপুরি সুস্থ হবার আগ পর্যন্ত লেন্স ব্যাবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
  • চোখ চুলকালেও চেষ্টা করুন চোখে হাত না দিতে। কারন চোখ চুলকালে আপনার চোখের অবস্থার আরও অবনতি হবে।
  • ঠাণ্ডা কিছু দিয়ে চোখ ঢেকে রাখুন।
  • ফ্লানেলের কাপড় ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে চোখে চেপে রাখলে আরাম পাবেন।
  • অ্যালার্জির উৎস এড়িয়ে চলুন।
  • সিজোনাল কঞ্জাঙ্কটিভাইটিস

পরাগ রেনু, ধুলা ও পোষা প্রাণীতে অ্যালার্জির কারনে চোখ ওঠা(Seasonal and perennial conjunctivitis)
আপনার এসব অ্যালার্জির কারনে চোখ উঠলে আপাকে নিম্নলিখিত ওষুধগুলো দেয়া হতে পারে;
  • অ্যান্টিহিস্টামিন(antihistamines)
  • মাস্ট সেল স্ট্যাবিলাইযার (mast cell stabilisers)
  • করটিকোস্টেরয়েড(corticosteroids)
অ্যান্টিহিস্টামিনদ্রুত আরোগ্যের প্রয়োজন হলে সাধারণত ডাক্তার অ্যান্টিহিস্টামিন খেতে দেন। অ্যান্টিহিস্টামিন অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া প্রতিহত করে। আপনি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিহিস্টামিন চোখের ড্রপ হিসেবে দিতে পারেন বা ওষুধ হিসেবে খেতে পারেন। সাধারণত দিনে একবার অ্যান্টিহিস্টামিন নিলেই চলে। আপনি গর্ভবতী হলে বা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে থাকলে আপনার অ্যান্টিহিস্টামিন না খাওয়াই ভাল। এ বিষয়ে আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
যদিও এখনকার অ্যান্টিহিস্টামিন খেলে ঘুম আসার কথা না তবুও ঘুমঘুম লাগতে পারে। বেশি অ্যান্টিহিস্টামিন খেলে বা খাওয়ার পর মদ্যপান করলে আরও বেশি ঘুম আসবে।
মাস্ট সেল স্ট্যাবিলাইযারমাস্ট সেল স্ট্যাবিলাইযার অ্যান্টিহিস্টামিনের মত দ্রুত স্বস্তি না দিলেও এটি লম্বা সময় ধরে কার্যকরভাবে রোগ নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কাজ করতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে; সেক্ষেত্রে এর সাথে আপনাকে অ্যান্টিহিস্টামিনও দেওয়া হতে পারে।
করটিকোস্টেরয়ডআপনার অ্যালার্জির মাত্রা অনেক বেশি বেড়ে গেলে আপনাকে অল্প সময় বাহ্যিক ব্যাবহারের জন্য করটিকোস্টেরয়ড(ক্রিম,জেল বা অয়েন্টমেন্ট) দেয়া হতে পারে। তবে একেবারেই প্রয়োজন না হলে এগুলো দেয়া হ্য় না।

কন্ট্যাক্ট লেন্সে অ্যালার্জির কারনে চোখ ওঠা (
Giant papillary conjunctivitis)যেহেতু এটি কন্ট্যাক্ট লেন্সের কারনে হয় তাই লেন্স পরা বন্ধ করে দিলে অনেক সময় এটি ঠিক হয়ে যায়। তবে চোখের উপরের পাতায় যে দাগগুলো হয় সেগুলো কিছুদিন থাকতে পারে। চোখে সার্জারির কিছুদিনের মধ্যে চোখ উঠলে অবিলম্বে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন যাতে তিনি আপনার চোখের অবস্থা ভালভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন এবং কার্যকর চিকিৎসা দিতে পারেন।

কোন প্রকার উত্তেজকের কারনে চোখ উঠলে (
Irritant conjunctivitis)এরকম চোখ ওঠার ক্ষেত্রে সাধারণত কোন চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না কারন উত্তেজক পদার্থটি বের করে ফেলতে পারলেই অধিকাংশ সময় চোখ পরিষ্কার হয়ে যায়। তবে চোখে অ্যাসিড বা ব্লিচের মত অত্যন্ত ক্ষতিকর কিছু লাগলে স্যালাইন দ্রবণ দিয়ে আপনার চোখ পরিষ্কার করানোর জন্য আপনাকে সাথে সাথে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
                                                              ডার্মাটোলজি

ত্বকের বিভিন্ন সমস্যাবলী

ত্বকের বিভিন্ন সমস্যাবলীত্বকের ৫টি সাধারণ সমস্যার কারণ ও তার চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে এখানে আলোচনা হয়েছে।

ওয়ার্টস বা আঁচিল
জীবনের কোনো একটি পর্যায়ে অধিকাংশ লোক ওয়ার্টসে আক্রান্ত হোন। সাধারণত ২০ বছর বয়সে এটি হয়ে থাকে।
ওয়ার্টস কি?ওয়ার্টস হচ্ছে এক ধরনের মাংসল পিন্ড, যা ১ মিলিমিটার থেকে ১ সেন্টিমিটারেরও অধিক জায়গা জুড়ে বিস্তৃত থাকে। ওয়ার্টস যাকোন জায়গায় হতে পারে, তবে সাধারণত হাত ও পায়ে বেশি হয়ে পায়ের ওয়ার্টসকে ভেরুকা বলে। যৌনাঙ্গ বা তার চারপাশে অথবা মলদ্বারে ওয়ার্টস হতে পারে।
কি কারণে এটি হয়?হিউমান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) এর সংক্রমণে ওয়ার্টস সৃষ্টি হয়, যা স্পর্শের মাধ্যমে থেকে ত্বকে ছড়িয়ে পরে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিভিন্ন জায়গা বা জিনিস, যেমন মেঝে বা মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে। যদি আপনি ওয়ার্টসে আক্রান্ত থাকেন, তাহলে ঘনিষ্ট স্পর্শের তা অন্য ব্যক্তির দেহে ছড়াতে পারে। সেই সাথে আক্রান্ত অংশ থেকে শরীরের অন্যান্য অংশেও ব্যপ্তি ঘটতে পারে।
চিকিৎসাঅধিকাংশ ক্ষেত্রে ওয়ার্টস নিজে নিজে দূর হয়ে যায়, তবে এরকম হতে ২ বছর পর্যন্ত সময় যেতে পারে। এর চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো হলোঃ
● প্রেসক্রিপশন ছাড়াই কিনতে পাওয়া যায় এমন ক্রীম বা মলম ও জেল (যৌনাঙ্গের জন্য প্রযোজ্য নয়) – আপনার জন্য কোনটি উপযুক্ত তা জানার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
● ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওয়ার্টের জন্য প্রযোজ্য রাসায়নিক পদার্থ
● ক্রায়োথেরাপি (শীতলকরণ) – প্রশিক্ষিত ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে ক্রায়োথেরাপি গ্রহণ করা অধিকাংশ সময় ত্বকের হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ দ্বারা বহির্বিভাগের চিকিৎসা রূপে এটি হয়।
● অস্ত্রোপচার ও লেজার -আঁচিলের উপর ডাক্ট টেপ লাগালে উপকার পাওয়ার খুব কমই,এ জাতীয় চিকিৎসা ব্যথাময় হয় এবং আঁচিল আবার ফিরে আসতে পারে।
ডাক্তার দেখানো কি প্রয়োজন?যদি ওয়ার্টসের কারনে যন্ত্রণাবোধ করেন এবং ডাক্তার এটির চিকিৎসা করুক এমনটি চান, চর্মরোগ বা ত্বক বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন। যদি জেনিটাল বা যৌনাঙ্গের ওয়ার্টসে আক্রান্ত তাহলে লজ্জাবোধ করে থাকলেও ডাক্তার দেখানো অত্যাবশ্যক, যাতে আপনি সঠিক ও চিকিৎসা পেতে পারেন।

ইম্পেটিগো
ইম্পেটিগো সাধারণত শিশু ও বাচ্চাদের হয়ে থাকে, তবে যে কেউ এতে আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণত মুখ ও হাতে হয়ে থাকে। শিশুদের মধ্যে ডায়াপার পরিধানের অংশে এটি হয়।
ইম্পেটিগো কি?ইম্পেটিগো হচ্ছে ত্বকের একটি প্রদাহ। এর ফলে ত্বকে ছোট ছোট ফোস্কা দেখা দেয় যা ফেটে হলুদ, স্যাঁতসেঁতে, চুলকানি ও যন্ত্রণাময় ক্ষত হয় ও শুকিয়ে গিয়ে ক্ষতের উপর কঠিন, শক্ত পড়ে যায়। নিচের অংশের ত্বক লালচে হয়ে জ্বলুনিপো হতে পারে।
কি কারণে এটি হয়ে থাকে?কাটা-ছেঁড়ার জন্য অথবা বহিঃত্বকে কোন সমস্যা, যেমন একজিমার কারনে ত্বকের ক্ষতি হলে মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া ত্বকে প্রবেশ করে এবং ইম্পেটিগো সৃষ্টি হয়। ইম্পেটিগো আক্রান্ত সাথে সরাসরি সংস্পর্শে এলে এবং তোয়ালে ও বিছানার চাদর ভাগাভাগি করে ব্যবহার ইম্পেটিগো ছড়ায়।
চিকিৎসা৩ সপ্তাহের মধ্যে ইম্পেটিগো নিজ থেকে দূর হয়ে যায়, তবে এটি উচ্চ মাত্রায় সংক্রামক অ্যান্টিবায়োটিক ক্রীম বা মলম অথবা ট্যাবলেট গ্রহণ করা উচিত যাতে দ্রুততার সাথে আরোগ্য করা যায়।
ডাক্তার দেখানো কি প্রয়োজন?রোগ নির্ণয় ও অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের পরামর্শের জন্য ত্বক বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করুন। গ্রহণের ৪৮ ঘন্টা পর অথবা ক্ষত শুকিয়ে যাওয়ার পর থেকে অধিকাংশ ব্যক্তির শরীরে এটি সংক্রামক হিসেবে থাকে না। সংক্রামণ হওয়া না থামা পর্যন্ত শিশুদেরকে স্কুল অথবা নার্সারিতে দেয়া বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত আপনি কি ইম্পেটিগোতে আক্রান্ত? এ সম্পর্কে মায়া ভয়েসে কথা বলুন অথবা এ সম্পর্কে জানতে ‘আপা কি বলে’ এই বিভাগে প্রশ্ন করুন।

সোরিয়াসিস
বাংলাদেশের জনসংখ্যার ২,৮৫৭,৯৮৭ জন ব্যক্তি সোরিয়াসিসে আক্রান্ত থাকে। সাধারণত ১১-৪৫ বছর বয়সের মধ্যে এটি হওয়া শুরু হয়ে থাকে। বংশগতভাবে এ রোগ চলতে থাকে, সোরিয়াসিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এক-তৃতীয়াংশের নিকট আত্মীয়রা একই রোগে আক্রান্ত থাকে। সমস্যা সংক্রামক নয়।
সোরিয়াসিস কি?সোরিয়াসিসের কারনে ত্বকে স্তরপূর্ণ, লাল দাগ দেখা যায়। এ দাগগুলো দেখতে উজ্জ্বল বা চকচকে হয় এবং এতে চুলকানি বা জ্বালা-যন্ত্রণা হয়। শরীরের যেকোন অংশ এটি হতে পারে, তবে হাঁটু এবং পিঠে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
কারণ
শরীরে উপস্থিত কিছু অ্যান্টিবডি ভুলে ত্বককে আক্রমণ করে এবং এতে অ্যান্টিবডি দ্রুততার সংখ্যাবৃদ্ধি করে ত্বকের উপর আস্তরণ সৃষ্টি করে। মদ্যপান, ধূমপান এবং কিছু বিশেষ ঔষধ, জ্বালা দূরকারী (যেমন ইবুপ্রোফেন) এবং বেটা-ব্লকার (হৃদরোগে ব্যবহৃত) প্রভৃতি গ্রহণের কখনো কখনো লক্ষণসমূহ খারাপ অবস্থা ধারণ করে। ঘনিষ্ট সংস্পর্শের দ্বারা এটি ছড়ায় না।
এর চিকিৎসা কি?ক্ষতের তীব্রতার উপর এটি কমানোর চিকিৎসা নির্ভর করে। এর চিকিৎসা হলোঃ
  • ভিটামিন ডি অথবা ভিটামিন এ সমৃদ্ধ ক্রীম বা মলম
  • স্টেরয়েড ক্রীম বা মলম
  • পিচ বা আলকাতরার মিশ্রণ
  • ত্বকে অতিবেগুণি রশ্মি (আলট্রা ভায়োলেট বা ইউভি রশ্মি) প্রয়োগ করা।
  • মুখে খাওয়ার ঔষধ বা ইঞ্জেকশন গ্রহণ
ডাক্তার দেখানো কি প্রয়োজন?ডার্মাটোলোজিস্টের (ত্বক বিশেষজ্ঞ) কাছেই অধিকাংশ লোক এর চিকিৎসা গ্রহণ আপনি কি সোরিয়াসিসে আক্রান্ত? এ সম্পর্কে মায়া ভয়েসে কথা বলুন অথবা এ সম্পর্কে জানতে ‘আপা কি বলে’ এই বিভাগে প্রশ্ন করুন।

রিং ওয়ার্ম বা দাদ
শিশুদের মধ্যে দাদ হতে বেশি দেখা যায়, তবে যে কেউ এতে আক্রান্ত হতে পারেন। মাথা, কুঁচকি, পা, নখ অথবা দাড়ি গজানোর অংশে দাদ হতে দেখা যায়।
দাদ কী?রিং ওয়ার্ম বলতে কোনো কীট বোঝায় না, বরং এটি হলো অসংখ্য ছত্রাক দ্বারা সৃষ্ট সংক্রমণ, যা বা বৃত্তাকারে শরীরে দেখা যায়। এটি কয়েক মিলিমিটার বা কয়েক সেন্টিমিটার জায়গা দখল করে ক্ষত অথবা বৃত্তগুলো লাল অথবা রূপালি বর্ণের হয় এবং ফোসকা পড়ে ও সেখান থেকে ক্ষরণ হয়।
দাদ কেন হয়?ছত্রাকের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা একজিমা সৃষ্ট দাগ অথবা কোন ক্ষতের মাধ্যমে ত্বকে প্রবেশ করে। সংস্পর্শ অথবা আক্রান্ত ব্যক্তির তোয়ালে, বিছানার চাদর অথবা চিরুনী ব্যবহারের মাধ্যমে সুস্থ ব্যক্তির দেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পোষা প্রানী থেকেও এটি ছড়াতে পারে।
দাদের চিকিৎসা কী?ফার্মেসিতে প্রাপ্ত ছত্রাক নিরোধক মলম বা ক্রীম, পাউডার অথবা ট্যাবলেট ফলপ্রসূ হতে পারে। বেশি ব্যবহৃত মলমগুলো হচ্ছে টার্বিনাফাইন এইচসিআই (১%) (Terbinafine HCl (1%)) এবং মাইকোনাজোল মলম (Miconazole ointment) যা আক্রান্ত স্থানে দিনে ২ করে এবং ২ সপ্তাহ ব্যবহার করতে হয়।
ডাক্তারের কাছে যাওয়া কি প্রয়োজন?দাদ হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত না হলে কিংবা ফার্মেসিতে থেকে ঔষধ গ্রহণের পর প্রদাহ না ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিৎ।
ভিটিলিগো বা শ্বেতীরোগভিটিলিগোকে বাংলায় শ্বেতী বলা হয় যাতে বাংলাদেশের অনেক মানুষ আক্রান্ত হোন। এটি বয়সে হতে পারে, তবে প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রেই (৪৪%) ১১ থেকে ২০ বছর বয়সে আক্রান্ত হওয়া হয়। নারী বা পুরুষের ত্বকের বর্ণ যাই হোক না কেন এতে সবাই আক্রান্ত হতে পারে।
ভিটিলিগো কী?ভিটিলিগোর কারণে ত্বকে বিবর্ণ সাদা দাগ পড়ে। এই দাগ শরীরের যেকোন অংশে হতে পারে, যেসব অংশ সূর্যরশ্মির সংস্পর্শে থাকে, যেমন মুখ ও হাত, সেখানে দাগ হতে বেশি দেখা যায়। এবং সাথে কালো, তামাটে ত্বকেও এটি দেখা যায়। ভিটিলিগোর কারণে মাথার চুল সাদা হয়ে যায়। দাগটি অথবা বড় হতে পারে, তবে এর আকার একই থাকতে পারে আবার বাড়তেও পারে। ঘনিষ্ট কারণে ভিটিলিগো অন্য ব্যক্তির দেহে ছড়িয়ে পড়ে না।
ভিটিলিগো কী কারণে হয়?মেলানোসাইট নামক কোষ, যা ত্বকের বর্ণ নির্ধারণ করে, তার অভাবের কারণে শ্বেতীরোগ হয়। কোষগুলো নিম্নবর্ণিত কারণে অনুপস্থিত থাকতে পারেঃ
● ইমিউন সিস্টেম বা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সঠিকভাবে কাজ না করলে এবং কোষগুলোকে আক্রমণ করলে
● ত্বক কিছু বিশেষ ধরনের ক্যামিকেল বা রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আসলে কিংবা রোদে পুড়ে অতিসক্রিয় থাইরয়েড গ্ল্যান্ড (হাইপারথাইরোডিজম)-এর সাথেও শ্বেতীরোগ হওয়া জড়িত।
ভিটিলিগোর চিকিৎসাত্বকের বর্ণ পুনরুদ্ধার ও শ্বেতী ছড়ানো নিয়ন্ত্রণ করার জন্য চিকিৎসা প্রদান করা হয়ে থাকে। চিকিৎসা হলোঃ
● স্টেরয়েড ক্রীম (ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে)
● আল্ট্রাভায়োলেট এ রশ্মি (অতিবেগুণি রশ্মি বা ইউভিএ)
● দাগ দূর করার জন্য বর্ণিল ক্রীম বা মলম, যেগুলোর মধ্যে কিছু কিছু প্রেসক্রিপশনে দেয়া হয়ে থাকে।
যদি ভিটিলিগোর কারণে ত্বকের ৫০% এরও অধিক অংশ আক্রান্ত হয়, তাহলে প্রেসক্রিপশনে ক্রীম দ্বারা সুস্থ ত্বককে হালকা রঙের করার চিকিৎসা প্রদান করা হতে পারে। এ চিকিৎসা ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে গ্রহণ অত্যাবশ্যক। প্রেসক্রিপশন ব্যতীত যেসব ক্রীম ক্রয় করা হয় ত্বকের রঙ হালকা করার দাবি করে, সেগুলোতে ক্ষতিকর ক্যামিকেল বা রাসায়নিক পদার্থ তাই এ জাতীয় ক্রীম ব্যবহার এড়িয়ে চলা ভালো।

ডেঙ্গু   •   সংক্রামক ব্যাধি   •   স্বাস্থ্য সচেতন থাকুন ডেঙ্গু সম্পর্কে 7 months ago Add Comment by  Maya Expert Team Wr...