ক্যান্সার প্রতিরোধ এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার ৭ টি উপায়
ক্যান্সার প্রতিরোধ এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার ৭ টি উপায়মাত্র ৭ টি ভাল অভ্যাস আপনার ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাসের পাশাপাশি হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস এবং অস্টিওপোরোসিসের সম্ভাবনা কমিয়ে দিতে পারে জানেন কি?
সুস্বাস্থ্য রক্ষায় শুরুতে নীচের এক বা দুটি অভ্যাস গড়ে তুলুন। এগুলি আয়ত্তে আসলে পরবর্তী গুলো চেষ্টা করুন ধীরে ধীরে।

১। ওজন নিয়ন্ত্রনঃ
আপনার ওজন যদি বেশী হয়ে থাকে প্রথমেই চেষ্টা করুন এটি স্থির রাখার। এটি করতে সক্ষম হবার পর আপনি নিজের ওজন কমানোর চেষ্টা শুরু করুন। আপনার ওজন কতটা বেশী বা কম তা পরীক্ষা করুন মায়া অ্যাপ থেকে।
টিপসঃ
- স্বাভাবিক হাঁটাচলা এবং শারীরিক কার্যকলাপ বাড়িয়ে তুলুন।
- খাবার অল্প পরিমাণে এবং বেশী সময় চিবিয়ে খান।
- শিশুদের টিভি এবং কম্পিউটার দেখার সময় সীমাবদ্ধ করুন।
- খাওয়ার পরপর ই শুয়ে না পড়ে একটু স্বাভাবিক হাঁটাচলা করুন।
২। শরীরচর্চাঃ
প্রতিদিন নুন্যতম ৩০ মিনিট শরীর চর্চার অভ্যাস গড়ে তুলুন। আরও বেশী সময় করতে পারলে ভাল।
টিপসঃ
- আপনার উপভোগ্য কোন কাজকে কিছুকে ব্যায়াম হিসেবে অনুশীলন করতে পারেন। যেমন- হাটা, নাচ করা , বাগান করা।
- শিশুদের নিয়মিত বাইরে নিয়ে খেলাধুলা করানো, সাইকেল চড়া ইত্যাদি খেলাধুলায় অভ্যস্থ করে তুলুন।
৩। ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করুনঃ
ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কথাটি অনেকবার শুনলেও ধূমপায়ীদের জন্য ধূমপান ত্যাগ আসলেও কষ্টকর তবে অসম্ভব কিছু নয়। একই ভাবে মদ্যপান ও ত্যাগ করা জরুরী।
টিপসঃ
- কঠিন মনে হলেও হাল না ছেড়ে চেষ্টা চালিয়ে যান।
- শিশুদের সামনে, ঘরে ও গাড়িতে ধুমপান হতে বিরত থাকুন।
- শিশুদের সাথে বন্ধুর মত ধূমপানের ক্ষতিকর দিকগুলো আলোচনা করুন।
৪। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস গড়ে তুলুনঃ
সুস্থ্য থাকতে হলে খাদ্যাভাস ঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরী।স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস গড়ে তোলার জন্য প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল ,এবং আঁশযুক্ত খাবার রাখুন।
টিপসঃ
- খাদ্যতালিকায় লাল আটার রুটি, লাল চালের ভাত রাখুন।
- মাছ, মুরগী, শস্য রাখুন বেশী বেশী এবং গরু ও খাসির মাংস কম রাখুন সম্ভব হলে বাদ দিন।
- ফাস্ট ফুড, চিনি, বেকারী আইটেম যেগুলোতে ক্ষতিকর চর্বির পরিমাণ বেশী তা পরিহার করুন।
- খাবারে পরিমিত তেল ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে অলিভ অয়েল বা ক্যানলা তেল ব্যবহার করুন।
৫। রোদ থেকে দূরে থাকুনঃ
সূর্যের প্রখর রোদ স্কিন ক্যান্সারের কারণ হতে পারে তাই দিনেরবেলা সাধারণত সকাল ১০ঃ৩০ – বিকাল ৪ঃ০০ টার মধ্যে বাইরে বের হওয়া কমাতে হবে। বের হলেও যথাযথ রোদ প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিতে হবে।
টিপসঃ
- রোদে বের হলে টুপি, বড় হাতার জামা, রোদ চশমা, ছাতা ব্যবহার করুন।
- ভাল মানের সানস্ক্রিন ( এস পি এফ সমৃদ্ধ ) ব্যবহার করুন।
৬। যৌনরোগ মুক্ত থাকুনঃ হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ক্যান্সার সৃষ্টিকারী আরও অনেক রোগের সাথে সম্পর্কিত। তাই যৌনরোগ থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকলে আপনার ক্যান্সার রোগের ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়।
টিপসঃ
- সর্বদা আপনার পার্টনারের বিশ্বস্ত থাকুন। একাধিক শারীরিক সম্পর্ক থেকে বিরত থাকুন ।
- যৌনমিলনে সর্বদা কনডম ব্যবহার করুন।
- পার্টনারের আশায় না থেকে নিজের সাথে কনডম রাখুন।
- নিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক সম্বন্ধে প্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানদেরকে সচেতন করুন।
৭। নিয়মিত স্ক্রিনিং টেস্ট করুনঃ
নিয়মিত কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়া সম্ভব। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার ধরা পড়লে এর চিকিৎসা করা সম্ভব। স্বাস্থ্য পরীক্ষা গুলো হলঃ
- কোলন এবং রেক্টাল ক্যান্সার।
- স্তন ক্যান্সার
- সার্ভিক্যাল ক্যান্সার
- ফুসফুস ক্যান্সার
হাল্কা জ্বর, ওজন হ্রাস, শরীরে অস্বাভাবিক গোটা বা ফুসকুড়ি ইত্যাদি দেখা দিলে অবহেলা না করে স্ক্রিন টেস্ট করানো উত্তম।
সুতরাং আপনার স্বাস্থ্যের নিয়ন্ত্রণ আপনি নিজে নিন এবং আপনার পরিবারের সদস্যদেরকেও এ অভ্যাস গুলো গড়ে তুলতে উৎসাহিত করুন।
No comments:
Post a Comment