অ্যালার্জিক রাইনাইটিস সৃষ্ট শারীরিক জটিলতাসমূহ
অ্যালার্জিক রাইনাইটিস সৃষ্ট শারীরিক জটিলতাসমূহঃ
যদি আপনার অ্যালার্জিক রাইনাইটিস থাকে, তবে আপনার আরো সমস্যা হতে পারে। বন্ধ নাক অথবা
সর্দি পড়া নাক ঘুমের মাঝে সমস্যা তৈরী করতে পারে, দিনের বেলায় তন্দ্রাচ্ছন্নভাব থাকতে পারে,
যন্ত্রনা দিতে পারে এবং মনযোগ এর মাঝে সমস্যা তৈরী করতে পারে। অ্যালার্জিক রাইনাইটিস
অ্যাজমার উপসর্গ কে আরো খারাপ করে দিতে পারে।
অ্যালার্জিক রাইনাইটিস এর সাথে সম্পর্কিত প্রদাহ কিছু সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে যেমন ন্যাজাল
পলিপ্স , সাইনুসাইটিস এবং মধ্য-কর্ন সংক্রমন। এগুলো নিচে বর্ননা করা হলঃ
নাকের পলিপ
নাকের পলিপ হল মাংসের ফুলে যাওয়া যা নাক অথবা সাইনাস গর্তের (নাকের পেছনে উপরে ছোট
গর্ত) আস্তরন থেকে উৎপন্ন হয়, যা প্রধানত নাকের পর্দার প্রদাহের কারনে হয়ে থাকে এবং অনেক
সময় রাইনাইটিসের ফলেও তৈরি হয়। নাকের পলিপ দেখতে অশ্রুবিন্দুর মত আকৃতির হয় যখন তারা
ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে এবং পুরোপুরি তৈরী হবার পর তারা দেখতে একটি ছড়ার মাঝে একটি আঙ্গুর
এর মত হয়ে থাকে। তারা আকৃতিতে বিভিন্ন রকমের হয় এবং হলুদ, ধূসর, অথবা গোলাপী রঙের হতে
পারে। তারা একা একা বেড়ে উঠতে পারে অথবা গুচ্ছের মত করে জন্মাতে পারে এবং উভয় নাসারন্ধ্রেই
প্রভাব ফেলতে পারে।
যদি নাকের পলিপ খুব বড় হয় অথবা গুচ্ছের মত হয় তবে এটি আপনার শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধা সৃষ্টি
করতে পারে, আপনার ঘ্রান অনুভূতি কমিয়ে ফেলতে পারে এবং সাইনাস বা গর্ত বন্ধ করে ফেলতে
পারে।
স্টেরয়েড নাকের স্প্রে ব্যবহার করলে ছোট নাকের পলিপ সংকুচিত হয় ফলে এগুলো আপনার নাকের
বাধার কারন হতে পারেনা। অপরদিকে, বড় পলিপ অপারেশন করে সরিয়ে ফেলতে হয়।
সাইনুসাইটিস
সাইনুসাইটিস, রাইনাইটিসের ফলে সৃষ্ট একটি সাধারন জটিলতা। এক্ষেত্রে নাকের সাইনাসে প্রদাহ বা
সংক্রমণ হয়। সাইনাস প্রাকৃতিকভাবে মিউকাস উৎপন্ন করে, যা সচরাচর ছোট চ্যানেল এর
মাধ্যমে নাকে নিষ্কাশিত হয়। যদি এই নিষ্কাশন চ্যানেলে প্রদাহ হয় অথবা আক্রান্ত হয় (যেমন –
রাইনাইটিস অথবা নাকের পলিপ এর কারনে), তাহলে মিউকাস আর নিষ্কাশিত হতে পারেনা ফলে
সাইনাস আক্রান্ত হয়ে পড়ে।
সাধারন উপসর্গগুলো হলঃ
● গালের, চোখের, কপালের চারপাশে গুরুতর ব্যথা
● দাঁতের ব্যথা
● বন্ধ নাক অথবা সর্দি পড়া – আপনার নাক সবুজ অথবা হলুদ মিউকাস তৈরী করতে পারে।
● উচ্চতাপমাত্রা (জ্বর)
সাইনুসাইটিস এর উপসর্গগুলো সেরে উঠতে পারে পেইনকিলার বা ব্যথা নিরামক যেমন প্যারাসিটামল,
ইবুপ্রোফেন, অথবা অ্যাস্পিরিন সেবনের মাধ্যমে। এটা ব্যথা এবং জ্বর কমাবে। তবে, এই ঔষধগুলো
প্রত্যকের জন্য উপযুক্ত নয়। তাই সেগুলো নেওয়ার পূর্বে ঔষধের সাথে যে নির্দেশিকাটি আসে তা যাচাই
করুন। যেমন – ১৬ বছরের কম বয়সী বাচ্চার অ্যাস্পিরিন নেওয়া ঠিক নয়, এবং আইবুপ্রফেন অ্যাজমা
রোগীদের জন্য নেয়া যাবেনা। যাদের পাকস্থলীতে আলসার আছে তারাও নিতে পারবেন না। আপনি যদি
অনিশ্চিত হোন তবে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
যদি সাইনাস ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয় তবে অ্যান্টিবায়োটিক এর পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।
দীর্ঘ-মেয়াদী (নিয়মিত) সাইনুসাইটিস এর ক্ষেত্রে, আপনার সাইনাসের নিষ্কাশন এর উন্নতির জন্য
অপারেশন এর প্রয়োজন হতে পারে।
মধ্য-কর্ন সংক্রমন
মধ্য-কর্ন সংক্রমন (অটাইটিস মিডিয়া), রাইনাইটিস সহ নাকের নানা রোগের কারণে সৃষ্ট শারীরিক
জটিলতা হিসেবে দেখা দিতে পারে। এই সংক্রমন হয় কারন রাইনাইটিস নাকের পেছনে ইউস্টাশিয়ান
(Eustachian) টিউবে সমস্যা করতে পারে যার ফলে এই ধরণের সংক্রমন হতে পারে। যদি এই
টিউব (যা নাকের পেছন এবং মধ্য-কর্নের সাথে সংযুক্ত হয়) ঠিকমত কাজ করতে না পারে, তাহলে
ফ্লুইড বা তরল মধ্য-কর্নে (ইয়ারড্রাম এর পেছনে) জমা হয় এবং পরবর্তীতে তা সংক্রমিত হতে
পারে। নাকের পেছনের সংক্রমণও এই টিউবের মাধ্যমে কানে ছড়িয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। মধ্য-
কর্নের সংক্রামনের উপসর্গঃ
● কানের ব্যথা
● উচ্চ তাপমাত্রা (জ্বর)
● শ্রবনশক্তি
● সমতা হারানো
বেশীর ভাগ কানের সংক্রমন কয়েকদিনের মাঝেই ঠিক হয়ে যায়, যদিও ব্যথার জন্যে ইবুপ্রোফেন
অথবা উচ্চ তাপমাত্রা থেকে মুক্তির জন্য প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যায়। অ্যান্টিবায়োটিকও
ব্যবহার করা যেতে পারে যদি উপসর্গ থেকে যায় অথবা গুরুতর
No comments:
Post a Comment